পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষমেলা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন রচনা করুন

পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষমেলা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন রচনা করুন ৷

প্রতিবেদনের প্রকৃতি : সংবাদ প্রতিবেদন
প্রতিবেদনের শিরোনাম : জীবনের জন্য বৃক্ষ
প্রতিবেদন তৈরির সময় : দুপুর ১২.০০ টা
তারিখ : ২০-৮-২০২৬
সংযুক্তি : বৃক্ষরোপণের ছবি (৩টি)

জীবনের জন্য বৃক্ষ

বৃক্ষ প্রকৃতির অংশ। প্রকৃতি ছাড়া পৃথিবী ও মানুষ বাঁচতে পারে না। মানুষের জীবনের অপরিহার্য উপাদান বৃক্ষ। মানবজীবনের এমন কোনো দিন নেই বা মুহূর্ত নেই যে, বৃক্ষ ছাড়া মানুষ চলতে পারে। কারণ বৃক্ষ থেকেই নির্গত হয় অক্সিজেন এবং এই অক্সিজেন ছাড়া মানুষ শ্বাসপ্রশ্বাসের কথা চিন্তাই করতে পারে না। পরিবেশের অন্যতম উপাদান বৃক্ষ ও গাছপালা ।

বাংলাদেশে খুব দ্রুত নগরায়ণ ঘটছে। ফলে গাছপালা ও বনভূমির পরিমাণ কমে আসছে। পরিবেশবিজ্ঞানীরা বলেন যে, কোনো দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে মোট ভূমির শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা দরকার। কিন্তু আমাদের দেশে এই বনভূমির পরিমাণ মাত্র ১৬ ভাগ। উত্তরবঙ্গে এই বনভূমির পরিমাণ আরও কম। ফলে একধরনের দীর্ঘ মেয়াদি খরা ও মরুকরণের শঙ্কায় আছে আমাদের দেশ। যেভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গাছপালা কেটে নেয়া হচ্ছে তার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে পরিবেশের ওপর। বৃক্ষের প্রতি মানুষ যদি সদয় ও যত্নবান না হয় তবে সামনে আরও বিপদ রয়েছে। বিশ্বের বনভূমি উজাড় হতে হতে অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। গাছপালার অভাবে প্রকৃতিতে দেখা দিচ্ছে ভূমিক্ষয়, বৃষ্টিহীনতা, ঊষরতা। ক্রমাগত বেড়ে চলেছে আমাদের জনসংখ্যা। এই বাড়তি মানুষের চাপে বনভূমির পরিমাণ দ্রুত কমে যাচ্ছে। যেখানে তিনটি গাছ কাটা হচ্ছে সেখানে লাগানো হচ্ছে একটি গাছ। দেশের উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলে বনভূমির পরিমাণ নেমে এসেছে ৩.৫ শতাংশে। এরই বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে। দিনের বেলা প্রচণ্ড গরম আর রাত্রিবেলা থাকে কনকনে ঠাণ্ডা। বৃক্ষ শুধু প্রকৃতির ভারসাম্যই রক্ষা করে না, গ্রামের অর্থনীতিকে চাঙা করেও তোলে । বাংলাদেশে প্রথম ১৯৭৬ সালে সরকারি উদ্যোগে গাছ লাগিয়ে বনাঞ্চল তৈরির কর্মসূচি নেয়া হয়। ১০-১৫ একর জমি নিয়ে কৃত্রিম বন সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হয় ।

জীবনের জন্য বৃক্ষ
বৃক্ষের প্রতি মানুষকে আগ্রহী ও মনোযোগী করে তোলার জন্য প্রতিবছর ১৩ জুন সারাদেশে ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান’ সরকারি কর্মসূচি হিসেবে পালিত হচ্ছে। প্রতিটি জেলা ও থানা সদরে কয়েকদিন ব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয় এবং নানা স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে গাছ রোপণ করা হয়। সবাইকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্নরকম পুরস্কার ও পদক প্রবর্তন করা হয়েছে। ‘বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার' দেয়া হয় এজন্য। এর ফলে একধরনের সামাজিক সচেতনতা তৈরি হয়েছে অনেকের মধ্যে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় এখন পুরস্কার হিসেবে বৃক্ষচারাও দেয়া হয় । বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বেসরকারি সংস্থাগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রাস্তার দুপাশে এবং পরিত্যক্ত বিভিন্ন অঞ্চলে তারা প্রচুর বৃক্ষরোপণ করছে। এইসব বৃক্ষরাজি কেবল চারদিকের শোভাই বৃদ্ধি করেনি, পরিবেশ রক্ষার্থেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সরকারি বেসরকারি নানাভাবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা চলছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অসাধু বনকর্মকর্তা এবং স্থানীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তির কারণে প্রচুর বৃক্ষ লোপাটও হয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকজন অসাধু বন কর্মকর্তা বৃক্ষনিধনে সহায়তা ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়ায় শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন। রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে রাস্তার পাশের বহু গাছ রাতের আঁধারে কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন। এদের বিরুদ্ধে যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়া যায় তবে পরিণতি খুব ভয়াবহ হতে পারে। প্রতিটি নাগরিকের বৃক্ষরোপণ অভিযানে শরিক হওয়া উচিত। কারণ বৃক্ষই জীবন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ শুধু অরণ্য সংরক্ষণ নয়, অরণ্য সম্প্রসারণেরও কাজ চলছে। তাই বৃক্ষরোপণ শুধু প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসাই নয়, মানবসভ্যতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য ও এক বিরাট প্রয়াস।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url