বাংলাদেশের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন রচনা করুন

বাংলাদেশের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন রচনা করুন ।

প্রতিবেদনের প্রকৃতি : সংবাদ প্রতিবেদন
প্রতিবেদনের শিরোনাম : বাংলাদেশের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা
প্রতিবেদন তৈরির সময় : দুপুর ১২.০০ টা
তারিখ : ২০-৮-২০২৬

বাংলাদেশের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা

শিক্ষার মূল্য অর্থ দিয়ে করা যায় না। শিক্ষার কারণেই মানুষ ও পশুতে পার্থক্য তৈরি হয়। মানবসভ্যতা শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল। জাতীয় ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে শিক্ষার গুরুত্ব সর্বাধিক। মাটিতে কেবল বীজ ছড়িয়ে দিলেই হয় না, সেই বীজ থেকে সবুজ পাতা সৃষ্টিতে দরকার হয় উর্বর মাটি, জল ও প্রয়োজনীয় আলো। তেমনি একটি মানবশিশু জন্ম নিলেই হবে না, তাকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে দরকার উপযুক্ত শিক্ষা ও পরিচর্যা। বর্তমান বিশ্ব হলো প্রতিযোগিতামূলক। তাই বর্তমান প্রজন্মকে কেবল শিক্ষা দিলেই হবে না, তাকে সুশিক্ষায় মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। মানুষকে মানবসম্পদে পরিণত করার প্রধান উপায় হলো শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা সেই বৃহত্তর শিক্ষার প্রথম সোপান । জাতীয় শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। ১ম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত হলো প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা সবার জন্য বাধ্যতামূলক হওয়ায় একে ‘সার্বজনীন শিক্ষা’ বলা হয় ।

আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার মান বেশ নাজুক। শিক্ষার মানের অবনতি পীড়াদায়ক। আগের তুলনায় শিক্ষার হার বাড়লেও তা যথেষ্ট নয়। বিপুল সংখ্যক নিরক্ষর মানুষ দেশের জন্য বোঝাস্বরূপ। তাদের চিন্তাভাবনা ও ধ্যানধারণাও পুরোনো। তারা আধুনিক জীবন-জগৎ সম্পর্কে কোনো সুষ্ঠু জ্ঞান রাখে না। ফলে সাধারণ শিক্ষার অভাবে এই জনগোষ্ঠী দেশ ও জাতির কোন কাজে লাগে না। তারা রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য অভিশাপ। এই অভিশাপ থেকে মুক্তির জন্য বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব দেয়া হয়েছে প্রায় দেড়শ বছর আগে থেকে। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। এই সংবিধানে শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। ১৯৭৪ সালের কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্টেও সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়। রাজনৈতিক কারণে এই প্রস্তাবও বাস্তবায়ন করা যায়নি। ২০০০ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু তারপরও প্রায় সাত কোটি মানুষ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছে। কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি কমাতে না পারলে আমাদের সব পরিকল্পনাই ভেস্তে যাবে। গত বছরগুলোতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেক বেশি ছিল। জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে। ফলে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে শিক্ষার সুফল লাভে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।

বাংলাদেশের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা

সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে নানা বাধা-বিপত্তি রয়েছে। দারিদ্র্য তার মধ্যে বড় একটি কারণ। গরিব মা- বাবারা তাদের সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে কাজেকর্মে পাঠাতে বেশি আগ্রহী। সন্তান টাকা রোজগার করে সংসারে সাহায্য করবে এই হলো তাদের মনোভাব। লেখাপড়া শেখাকে তারা সময়ের অপচয় বলে মনে করে। সেজন্য দারিদ্র্য হ্রাস পাবার সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারের একটি সম্পর্ক রয়েছে। এশিয়ার বহু দেশে শিক্ষার হার অনেক বেশি। শ্রীলঙ্কা, জাপান ও রাশিয়ায় এই সংখ্যা প্রায় শত ভাগ। সমস্ত বাধা-বিপত্তি দূর করে প্রাথমিক শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতেই হবে। তা নাহলে উন্নয়ন সঠিকভাবে হবে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরও এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার ও সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ চেষ্টার দ্বারা প্রাথমিক শিক্ষাকে সবশ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে দেশ উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে বলে আমরা মনে করি ।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url