সুখী কমলগঞ্জ কলেজের বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন রচনা করুন
সুখী কমলগঞ্জ কলেজের বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন রচনা করুন ।
প্রতিবেদনের প্রকৃতি : সংবাদ প্রতিবেদনপ্রতিবেদনের শিরোনাম : কলেজের বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা
প্রতিবেদন তৈরির সময় : দুপুর ১২.০০ টা
তারিখ : ২০-৮-২০২৬
সুখী কমলগঞ্জ কলেজের বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্ৰতিযোগিতা
সুখী কমলগঞ্জ কলেজের সপ্তাহব্যাপী বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা গত ৬ মে থেকে ১২ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। সুখী কমলগঞ্জ কলেজটি এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পড়াশুনোর পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চা ও খেলাধুলায় এই কলেজের সুনাম দীর্ঘদিনের। জাতীয় পর্যায়েও এই কলেজটি পুরস্কৃত হয়েছে ইতোমধ্যে। স্বনামধন্য সুখী কমলগঞ্জ কলেজের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সবার আগ্রহ ও মনোযোগ দাবি করে প্রতিবছর ।
অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে সুখী কমলগঞ্জ কলেজের সপ্তাহব্যাপী বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজক হিসেবে সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক, ছাত্র সংসদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক অসামান্য কৃতিত্বের পরিচয় দেন। এছাড়াও সংস্কৃতিমনা অন্য কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রী এই আয়োজনকে সফল করে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছে। সপ্তাহ ধরে চলা এই প্রতিযোগিতাটি ছিল উন্নত রুচি ও মূল্যবোধের পরিচায়ক।
সুদক্ষ অধ্যক্ষ মহোদয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলাকার মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনও করেন তিনি। বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকবৃন্দের উপস্থিতিতে প্রতিযোগিতার সূচনা হয়। বেশি সংখ্যক ছাত্রছাত্রী যাতে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে সেজন্য অনেক রকম বিষয়কে প্রতিযোগিতার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। স্বরচিত কবিতা, উপস্থিত বক্তৃতা, আবৃত্তি, নির্ধারিত বক্তৃতা, বিতর্ক, পুথিপাঠ, গল্প বলা, প্রবন্ধ রচনা, স্বরচিত গল্প-কবিতা, সুন্দর হস্তাক্ষর, একক অভিনয়, চিত্রাঙ্কন, দেশাত্মবোধক গান, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুল সংগীত, উচ্চাঙ্গ সংগীত, পল্লিগীতি, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, লালনগীতি, আধুনিক গান, ছড়া গান, নৃত্য, কৌতুক, চিত্রাঙ্কন প্রভৃতি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনেকজন করে প্রতিযোগী এতে অংশ নেয়, যার ফলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় প্রতিটি শাখায়। শিক্ষকবৃন্দ আগ্রহ নিয়ে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন এবং উপভোগ করেন সমগ্র অনুষ্ঠানটি। বাড়তি উৎসাহ যুগিয়েছে অডিটোরিয়াম ভর্তি শিক্ষার্থীর সরব উপস্থিতি। যারা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি, দর্শক হিসেবে উপস্থিত থেকে তারা অনুষ্ঠানকে মাতিয়ে রাখে। স্কাউট ও রোভার দলের সদস্যরা শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দেয় ।প্রতিযোগিতার শেষ দিনে এলাকার সম্মানিত সংসদ সদস্য প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং সবার উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। কলেজের এই সাংস্কৃতিক চর্চায় প্রধান অতিথি মহোদয় সন্তোষ প্রকাশ করে আরও বেশি বেশি সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনায় আরও মনোযোগী হতে পরামর্শ দেন এবং কলেজের উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। শিক্ষা যেমন আমাদের প্রকৃত মনুষ্যত্বের অধিকারী করে তোলে তেমনি সংস্কৃতিচর্চা শিক্ষার্থীদের সুকুমার বৃত্তিকে বিকশিত করে তুলবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সপ্তাহব্যাপী প্রতিযোগিতায় ১ম, ২য়, ৩য় স্থান বিজয়ীদের মধ্যে মূল্যবান বই ও স্মারক প্রদান করা হয়। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুনন্দা অধিকারী পাঁচটি বিষয়ে বিজয়ী হয়ে প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হবার কৃতিত্ব অর্জন করে। এই সাফল্যের জন্য তাকে বিশেষ পুরস্কার একটি ল্যাপটপ প্রদান করা হয় ।
সুখী কমলগঞ্জ কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ মহোদয় প্রতিযোগিতায় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থেকে সবাইকে অনুপ্রাণিত করেন। পুরো আয়োজনের জন্য অধ্যক্ষ মহোদয়ের প্রচেষ্টা ও আগ্রহের ভূয়সীপ্রশংসা করা হয়। বিপুল সংখ্যক অভিভাবক সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং তারা অকুণ্ঠচিত্তে এই ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রশংসায় মুখর হয়ে ওঠেন। অভিভাবকদের জন্যও কয়েকটি প্রতিযোগিতা নির্ধারিত ছিল। তাতে অনেক অভিভাবক অংশ নেন এবং তাদের মধ্যে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। সাত দিনব্যাপী দারুণ উৎসাহ ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে এই প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে।
