নগর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন রচনা করুন
নগর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন রচনা করুন।
প্রতিবেদনের প্রকৃতি : সংবাদ প্রতিবেদনপ্রতিবেদনের শিরোনাম : নগর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা
প্রতিবেদন তৈরির সময় : দুপুর ১২.০০ টা
তারিখ : ২০-৮-২০২৬
নগর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা
বাংলাদেশ একটি গ্রামপ্রধান দেশ। প্রায় ৬৮হাজার গ্রাম নিয়ে গড়ে উঠেছে আমাদের এই দেশ। কিন্তু ধীরে ধীরে নগরায়ণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গত শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশে নগরায়ণ দ্রুত গতিতে শুরু হয়। স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে অনেক বেশি সংখ্যায় মানুষ নগর ও শহরে বাস করতে থাকে। বাংলাদেশে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা বেশি দিনের নয়। ১৯৬৫ সালে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম থেকেই এই অধিদপ্তর ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রাখছে । নগরায়ণের ফলে অনিবার্য কিছু সমস্যা দেখা যায়। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন ও অপরাধপ্রবণতা সাগরিক জীবনে নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দেয়। নগরে বসবাসকারী মানুষ সবাই ধনী নয়, অনেক গরিব লোকজনও নগরে বাস করে । গ্রামের আর্থিক উন্নতি না ঘটলে নগরের উন্নয়ন ঘটে না। বাংলাদেশের অধিকাংশ নগরের অর্থনৈতিক কাঠামো দুর্বল। পরিবহন সমস্যা, যানজট সমস্যা, সড়ক দুর্ঘটনা নগরবাসীর জন্য চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। নগরজীবনে নানারকম সেবা পাওয়া যাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেবা পাবার ক্ষেত্রে বহু বৈষম্য দেখা যায় । নগরে অনেক গরিব লোক বাস করে। বস্তিগুলোতে অনেক গরিব লোক ঠাঁই নিয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন প্রভৃতি ক্ষেত্রে বৈষম্য থাকায় মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব পড়ে। নারী ও শিশু নির্যাতন, ছিনতাই ইত্যাদি নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নগরবাসীর মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বায়ু, পানি ও শব্দদূষণ তীব্র আকার ধারণ করায় জনজীবন যেমন অসহ্য হয়ে উঠেছে তেমনি অসাধু ব্যক্তিরা উন্মুক্ত স্থান, পার্ক ও উদ্যান, লেক, নদী, জলাশয় প্রভৃতি দখল করে নেয়ায় নগরের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। তাছাড়া দখলদারদের হাত থেকে পাহাড়, বনবনানীও রেহাই পাচ্ছে না। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। বর্তমান সময়ে এসে নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা খুব গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি গ্রাম হলেও নগরজীবন আমাদের উন্নয়নের সূতিকাগার। সে লক্ষ্যেই বর্তমানে সরকার শহর ও নগরগুলোর বিকেন্দ্রিকরণের কথা ভাবছেন । নগরায়ণের ভালো দিকগুলো চিহ্নিত করে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। নগর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা আজ ব্যাপকভাবে অনুভব করা যাচ্ছে। সেজন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন আগে করতে হবে। বিভিন্ন সংস্থা, সুশীল সমাজ, নাগরিক প্রতিনিধির সহযোগিতায় পরিকল্পিত নগরায়ণের দিকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সেজন্য নগরের বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। মহানগর, মাঝারি শহর এবং ছোট শহরগুলোকে এই উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। আমরা জানি, কাজের সন্ধানে প্রতিদিন রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় বড় শহরে অনেক গরিব মানুষ ভিড় করে। এর ফলে নগরে বাড়তি চাপ পড়ে এবং মানুষের জীবন নানাভাবে বিপন্ন হয়। সেইজন্য নগরায়ণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে শহরমুখী মানুষের এই স্রোত বন্ধ করা যায়। পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে জনগণকে যুক্ত করতে হবে উন্নয়নের সঙ্গে এবং লক্ষ রাখতে হবে যাতে বিনিয়োগ বাড়ে। বিনিয়োগ বাড়লে নগরের শিল্পায়ন হবে এবং মানুষের কাজ ও আয় বাড়বে, দারিদ্র্য কমবে। দারিদ্র্য দূর হলে জীবনযাত্রার মান বাড়বে।
আবাসিক এলাকার সঙ্গে অফিস ও বাণিজ্যিক এলাকা তৈরি করা · গতিশীল পরিবহন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা এবং রাজধানী ঢাকা ও চট্রগ্রামের দিকে জনস্রোত হ্রাস করা অপরিহার্য। নগরে আবাসন তৈরির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সড়ক পথের উন্নয়ন করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি নগর উন্নয়নের জন্য পরিবেশের ক্ষতি করে এমন সব কার্যক্রম বন্ধ করে ভূমি সংরক্ষণ করতে হবে। এই নগর উন্নয়নের সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে উন্মুক্ত স্থানসমূহ রক্ষা করা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, পাহাড়ি জেলাগুলোতে পাহাড়, টিলা রক্ষা করা, শহরের নিকটবর্তী অঞ্চল বা শহরতলি এলাকাকে অপরিকল্পিত উন্নয়ন থেকে রক্ষা করার মাধ্যমে নগরায়ণজনিত সমস্যা সমাধান করা যায়। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল একটি দেশ। বাংলাদেশ মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট ২০২১ পরিকল্পনাকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে। দেশের সুষ্ঠু উন্ননের জন্য নগরায়ণের কোন বিকল্প নেই। পল্লির মানুষ ও কৃষির উন্নতির সাথে সাথে পরিকল্পিত নগরায়ণ না হলে সত্যিকারের জীবনমানের উন্নয়ন অর্জিত হবে বলে মনে হয় না। অতএব এখনি দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দরকার তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন।
