বইমেলা দেখার অনুভূতি
বইমেলা দেখার অনুভূতি ।
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মফস্বল শহরে থাকি। বহুদিনের ইচ্ছে একুশের বইমেলায় যাব। পত্রিকায় পড়ি মেলার খবর, টেলিভিশনে দেখি। কত লোকজন, ছাত্রছাত্রী, জ্ঞানীগুণী, কবি-সাহিত্যিকরা মেলায় আসেন, কথা বলেন, কত অনুষ্ঠান হয় বইমেলায়। অবশেষে এবছর ১৬ ফেব্রুয়ারি সেই দিনটি আসল আমার জীবনে। আজ পুরোটা দিনই কাটলো বাংলা একাডেমির বইমেলায়। গেট দিয়ে ঢোকার পর বিশাল সোহরাওয়ার্দি মাঠ। সুন্দর সারিবদ্ধ প্যাভেলিয়ান আর দোকান । দারুণভাবে সাজানো হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণ। মূল মঞ্চে নানারকম অনুষ্ঠান হয় প্রতিদিন। আজও ছিল চমৎকার আলোচনা আর সংগীতানুষ্ঠান। কিছুক্ষণের জন্য আমিও দর্শকদের সারিতে বসে গান শুনলাম ।
মেলার ঠিক মাঝখানে বাংলা একাডেমির প্যাভেলিয়ান। সুন্দরভাবে সজ্জিত। অসংখ্য ক্রেতা পছন্দের বইয়ের জন্য ভিড় করেছে সেখানে । আমার কয়েকটি বইয়ের দরকার ছিল, একটি কোষগ্রন্থ এবং অভিধান। জমানো টাকা দিয়ে তার কয়েকটি বই কিনে ফেললাম। বাংলা একাডেমি অনেকগুলো জীবনীগ্রন্থ বের করেছে এবার। সেগুলো উল্টেপাল্টে দেখলাম। মেলার একপাশে ছিল শিশুদের জন্য চমৎকার আয়োজন- সিসিমপুর। কচিকাঁচাদের ভিড় সেখানে উপচে পড়ছে।
নতুন লেখকদের প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের জন্য নজরুল মঞ্চ রয়েছে মেলায়। প্রখ্যাত ব্যক্তিদের দিয়ে মূলত নতুন লেখকরা তাদের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করিয়ে থাকেন। বিভিন্ন ধরনের বই প্রকাশ পায় এই মেলার সময় । হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়লো নজরুল মঞ্চের দিকে। কয়েকজন তরুণ লেখক সেখানে অপেক্ষা করে আছেন তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য। অনেক প্যাভেলিয়ানে লেখকরা নিজেই বসে আছেন— উদ্দেশ্য তাঁদের বইবিক্রির সময় ক্রেতাদের অটোগ্রাফ দেওয়া। প্রখ্যাত লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারকে এই প্রথম স্বচক্ষে দেখলাম। অনেক তরুণ শিক্ষার্থী তাঁর অটোগ্রাফ নেয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ।
শেষ বিকেলে মেলা থেকে বেরিয়ে আসার পর ঘুরে দেখলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। কত সংগ্রাম আর গর্বের এই বিশ্ববিদ্যালয়। রাস্তার দুপাশে হরেকরকম জিনিসের দোকান। বাড়ির জন্য কয়েকটি সৌখিন জিনিস কিনে ফেললাম ছোট ভাইবোনকে দেয়ার জন্য। ভাবছিলাম আগামীকাল সকালেই আবার ফিরে যাব চিরচেনা গ্রামে কিন্তু বুকের ভেতর বয়ে নিয়ে যাব বইমেলার এই দারুণ উজ্জ্বল স্মৃতি।
